
বিশেষ প্রতিনিধি :
“আজকের পদক্ষেপ,আগামীর ন্যায়বিচার,সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকারম” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৮ মার্চ (রবিবার),নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,মুন্সীগঞ্জ প্রাঙ্গনে নারী উদ্যোক্তা মেলা অনুষ্ঠিত হয়,যা শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার,মুন্সীগঞ্জ, জনাব মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম; সিভিল সার্জন,মুন্সীগঞ্জ, জনাব ডাঃ কামরুল জমাদ্দার; প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,জেলা পরিষদ,মুন্সীগঞ্জ, জনাব মোছাঃ নাজমা নাহার; এবং উপপরিচালক,স্থানীয় সরকার, মুন্সীগঞ্জ, জনাব মৌসুমী মাহবুব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট জনাব বিউটি আক্তার, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর উপপরিচালক জনাব আলেয়া ফেরদৌসী, জেলা তথ্য কর্মকর্তা জনাব রহিমা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ, কিশোর কিশোরী ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬-এর তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং নারীর অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”–এর আলোকে নারীর সমতা, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
আলোচনায় নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নারীর সুরক্ষায় গৃহীত বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার বিষয় গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং একটি বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নারীদের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও অবদানও আলোচনায় তুলে ধরা হয়।
সভায় নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় এবং নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের আশাবাদ ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষিত হয়।


