অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা লাপাত্তা, টাকা ফেরত নিয়ে শঙ্কায় গ্রাহক

ভোরের মুন্সিগঞ্জ ভোরের মুন্সিগঞ্জ

স্বাধীনতা সত্য প্রকাশে

প্রকাশিত: 10:24 PM, September 24, 2026

শেখ আছলামঃ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পলাতক রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের এক ব্যাংক কর্মকর্তা।এই খবরে আতঙ্কিত শত শত গ্রাহক ব্যাংকটির মূল ফটকে ভীড় করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার আমানত লোপাটের বিষয়টি ছড়িয়ে পরে।

খবর পেয়ে ব্যাংকে ছুটে আসেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার,মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর) সার্কেলসহ ব্যাংকটির উর্ধতন কর্মকর্তারা। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব।

জানাগেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাংকের এক নারী গ্রাহক তার এফডিআরের খোঁজ নিতে আসলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরে। পরে এক এক করে উঠে আসে ১৪টি একাউন্ট থেকে প্রায় পৌণে ২ কোটি টাকার আমানত জালিয়াতি ও লোপাট করা হয়েছে। এর দুইদিন আগে থেকেই ব্যাংকটির ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ পলাতক রয়েছেন।

এ পর্যন্ত আমানত খোয়া যাওয়া ১৪টি একাউন্টেরর গ্রাহকরা জানান ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিলেও ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ সেই টাকা জমা রশিদে নিজে স্বাক্ষর ও সিল প্রদান করে গ্রাহকদের বিদায় করেছে। কিন্তু সেই টাকা মূল সিস্টেমে জমা দেয়নি।
নুরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক জানান, তার শ্যালক মোঃ বাহাদুর আইভরি কোস্ট প্রবাসী। তার একাউন্ডে ৮৫ লাখ টাকা ছিল। সে একাউন্ট ওপেন করার পর চেক বই-ই তোলেনি। কিন্তু আজ খোঁজ নিতে এসে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই।
ব্যাংক থেকে একাউন্টের ফোন নম্বর পরিবর্তন করে পুরো টাকাই তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ নিজ নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা তুলেছে।

মনিকা বেগম নামে এক গ্রাহক বলেন,আমার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় এফডিআর হিসেবে এই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন ব্যাংকে এসে শুনছি অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা পড়েনি। সব টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জালিয়াতি করে সরিয়ে ফেলেছে।

আগ্রণী ব্যাংক মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান জানান, প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা এখানে আসার জন্য রওনা হয়েছেন। এই বিষয়ে ব্যাংকের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত না করে কত টাকা লোপাট হয়েছে বা এর সাথে কারা জড়িত তা বলা যাবে না। আমরা গ্রাহকদেরকে তাদের আমানত ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশস্ত করছি।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।