গজারিয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

ভোরের মুন্সিগঞ্জ ভোরের মুন্সিগঞ্জ

স্বাধীনতা সত্য প্রকাশে

প্রকাশিত: 12:08 AM, September 14, 2026

 

স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় রিনা আক্তার (৩৫) নামের দুই সন্তানের এক গৃহবধূকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে সুমন পলাতক রয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে রিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিনা আক্তার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের সুমন সরকারের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামে। প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে সুমনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে রিনাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে সুমন পালিয়ে যান। সুমন পেশায় পেইন্টার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। গত তিন-চার বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারি হতো।

সুমনের মা রুফিয়া বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সুমনের সঙ্গে রিনার কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা দুজনকে মীমাংসা করে দেন। রাতে কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সকালে সুমনের মেয়ে সিনহা কান্নাকাটি করতে থাকলে তিনি ঘরে গিয়ে রিনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এর আগেই সুমন ঘর থেকে পালিয়ে যান। ছেলের বিচার দাবি করেন রুফিয়া বেগম।

রিনার মা সাকিনা বেগমের অভিযোগ, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই রিনাকে মারধর করতেন এবং বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এসব বিরোধের জেরেই রিনাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বলছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহমেদ পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।